【2022】মিলের অন্বয়ী ব্যতিরেকী পদ্ধতির সূত্রটি ব্যাখ্যা কর। এর বৈশিষ্ট্য গুলি লেখ

মিলের অন্বয়ী ব্যতিরেকী পদ্ধতির সূত্রটি ব্যাখ্যা কর। এর বৈশিষ্ট্য গুলি লেখ।
অথবা
সংযুক্ত পদ্ধতি কাকে বলে ? উদহারণ সহ এর (বৈশিষ্ট, সুবিধা,অসুবিধা) লেখ।
অথবা
রামবাবু যখন সকালে হাটতে বের হন তখন তার ঠান্ডা লাগে যখন তিনি সকালে হাটতে বেরোন না তখন তার ঠান্ডা লাগে না। উপরের দৃষ্টি কোনে কোন পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে? সেটি ব্যাখ্যা করো।


অন্যায় ব্যতিরেকী পদ্ধতি:- অন্যায় পদ্ধতি ও ব্যতিরেকী পদ্ধতির মিশ্রিত বা মিলিত রূপ হলো এই অন্যায় ব্যতিরেকী পদ্ধতি। যাকে সংযুক্ত পদ্ধতি বলা হয়। এই পদ্ধতি প্রসঙ্গে মিল ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছেন, "আলোচ‍্য ঘটনার উপস্থিত এমন দুই বা ততোধিক সদর্থক দৃষ্টান্তে যদি কেবলমাত্র একটি বিষয় সাধারণভাবে উপস্থিত থাকে এবং আলোচ‍্য ঘটনা অনুপস্থিত এমন দুই বা ততোধিক নঞর্থক দৃষ্টান্তে যদি সেই বিষয়টি অনুপস্থিত থাকে, তাহলে কেবল যে বিষয়টির জন্য দুই প্রাকার দৃষ্টান্ত গুচ্ছের মধ্যে পার্থক্য সেই বিষয়টি আলোচ‍্য ঘটনার কার্য বা কারণ বা কারণের অংশ"।

অপসারণের সূত্র:- যদি এমন হয় যে কোন ঘটনা উপস্থিত হলে অন্য একটি ঘটনা উপস্থিত হচ্ছে এবং প্রথম ঘটনাটি অনুপস্থিত হলে অন্য ঘটনাটি অনুপস্থিত হচ্ছে তাহলে বুঝতে হবে যে ওই দুটি ঘটনার মধ্যে কার্য কারণ সম্বন্ধ থাকা সম্ভব।
               →অন্যায় ব্যতিরেকী পদ্ধতি প্রয়োগের জন্য সদর্থক এবং নঞর্থক এই দুই শ্রেণির দৃষ্টান্ত হচ্ছে প্রয়োজন। সদর্থক দৃষ্টান্ত হচ্ছে আলোচ‍্য ঘটনা এবং অপর একটি ঘটনা সাধারণভাবে উপস্থিত থাকে আর নঞর্থক দৃষ্টান্ত হচ্ছে আলোচ‍্য ঘটনা এবং অপর একটি ঘটনা সাধারণভাবে অনুপস্থিত থাকে। কাজেই সদর্থক এবং নঞর্থক দৃষ্টান্ত গুচ্ছ প্রধান একটি ব্যাপার কে প্রকাশ করে। তা হল আলোচ‍্য ঘটনা এবং অপর ঘটনাটির মধ্যে যেমন মিল আছে তেমন অমিল আছে। এই জন্য এই পদ্ধতিকে দৈত্য অন্বয়ী পদ্ধতি বলে।

সাংকেতিক উদহারণ:-
সদর্থক দৃষ্টান্ত গুচ্ছ:-

পূর্ববর্তী ঘটনা(কারণ)                     অনুবর্তী ঘটনা(কার্য)

ABC                                                 abc

ACD                                                 acd

ADE                                                 ade


নঞর্থক দৃষ্টান্ত গুচ্ছ:-

পূর্ববর্তী ঘটনা(কারণ)                     অনুবর্তী ঘটনা(কার্য)

BCD                                                 bcd

DEF                                                 def

EFG                                                 efg

. ' . (A) হলো (a) এর কারণ।

এখানে সদর্থক দৃষ্টান্ত গুচ্ছে দেখা যাচ্ছে যে পূর্ববর্তী ঘটনার মধ্যে (A) এবং অনুবর্তী ঘটনার মধ্যে(a) সবসময় একত্রে উপস্থিত আছে। আবার নঙর্থক দৃষ্টান্ত গুচ্ছে দেখা যাচ্ছে যে, পূর্ববর্তী ঘটনার মধ্যে (A) এবং অনুবর্তী ঘটনার মধ্যে (a) সবসময় একই সঙ্গে অনুপস্থিত আছে। কাজেই সদর্থক দৃষ্টান্ত গুচ্ছে দুটি ঘটনার উপস্থিতির সাদৃশ্য এবং নঞর্থক দৃষ্টান্ত গুচ্ছে দুটি ঘটনার অনুপস্থির সাদৃশ্য থেকে অন্যায় পদ্ধতির সাহায্যে অনুমান করা যায় যে (A) হল (a) এর কারণ।

বাস্তব উদহারণ:-
সদর্থক দৃষ্টান্ত

পূর্ববর্তী ঘটনা(কারণ)                     অনুবর্তী ঘটনা(কার্য)

X এর রাত্রিতে স্নান করা আছে           জ্বর হওয়া আছে
Y এর রাত্রিতে স্নান করা আছে           জ্বর হওয়া আছে
Z এর রাত্রিতে স্নান করা আছে           জ্বর হওয়া আছে


নঞর্থক দৃষ্টান্ত

পূর্ববর্তী ঘটনা(কারণ)                       অনুবর্তী ঘটনা(কার্য)

X এর রাত্রিতে স্নান করা নেই            জ্বর হওয়া অনুপস্থিত
Y এর রাত্রিতে স্নান করা নেই            জ্বর হওয়া অনুপস্থিত
Z এর রাত্রিতে স্নান করা নেই            জ্বর হওয়া অনুপস্থিত


. ' . রাত্রিতে স্নান করা = কারণ, জ্বর হওয়া = কার্য ।


বৈশিষ্ট্য:- 
(১)এ পদ্ধতিতে দুই প্রকার দৃষ্টান্ত গুচ্ছ প্রয়জন-সদর্থক ও নঞর্থক।
(২) এই পদ্ধতিতে প্রত্যেকটি দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণের সাহায্যে সংগ্রহ করা হয়।  তাই এই পদ্ধতি হলো পর্যবেক্ষণমূলক পদ্ধতি।
(৩) এই পদ্ধতিতে একবার উপস্থিতির মিল বা অন্বয়ী লক্ষ করা হয়। এবং আর একবার অনুপস্থিতির মিল বা অন্বয়ী লক্ষ করা হয়। তাই একে দ্বৈত অন্বয়ী পদ্ধতি বলা হয়।

সুবিধা:-
(১) অন্বয়ী ব্যতিরেকী পদ্ধতি অন্বয়ী পদ্ধতির মতো প্রধানত পর্যবেক্ষণের ওপর নির্ভরশীল। কাজেই পর্যবেক্ষণের সুবিধা বা গুন গুলি এই পদ্ধতিতে লক্ষ্য করা যায়।
(২) এই পদ্ধতি প্রয়োগ খুব ব্যাপক। যে সব ক্ষেত্রে পরীক্ষা সম্ভব নয় সেসব ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিকে প্রয়োগকরা যায়।
 (৩) এই পদ্ধতির সাহায্যে আমরা কার্য থেকে কারণ এবং কারণ থেকে কার্যে অগ্রসর হতে পারি।
(৪) এই পদ্ধতির সাহায্যে যে সিদ্ধান্ত পাওয়া যায় তা বহুকারণ সম্ভবনা থেকে অনেক অংশে মুক্ত।

অসুবিধা:- 
(১)অন্বয়ী ব্যাতিরিকি পদ্ধতি পর্যবেক্ষণের ওপর নির্ভরশীল বলে,এক্ষেত্রে পর্যবেক্ষণ জনিত দোষ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
(২) অন্বয়ী ব্যাতিরিকি  পদ্ধতিতে দু-ধরনের দৃষ্টান্ত গুচ্ছ প্রয়োজন। এর মধ্যে নঞর্থক দৃষ্টান্ত গুচ্ছ সবথেকে প্রয়োজন। অথচ উপযুক্ত নঞর্থক দৃষ্টান্ত সংগ্রহ করা যেমন কঠিন তেমনি শ্রম সাপেক্ষ।
(৩)অন্বয়ী পদ্ধতির মতো এই পদ্ধতিতে কার্য কারণ কে সহ অবস্থা থেকে পৃথক করতে পারে না।
(৪) এই পদ্ধতির সিদ্ধান্ত অপেক্ষা নিশ্চিত হলেও সুনিশ্চিত নয়।

আরো পড়ো